পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। শনিবার একই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক জনসভায় অংশ নিয়ে একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মাঠে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী, মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর এবং বাঁকুড়ার কুশমন্ডিতে তিনটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বাংলা এবার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। মানুষ তৃণমূলের ভয়কে জয় করে বিজেপির ওপর আস্থা রাখছে। এখন যা দেখছেন তা কেবল ট্রেলার, আসল ছবি এখনো বাকি।”
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তিনি সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে হবে এবং সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে ‘দুঃশাসন’ আখ্যা দিয়ে এর অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে জনসভা করেন। ওন্দার সভায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হীরক রানি’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, “এবার বাংলার মানুষ হীরক রানিকে টাটা-বাইবাই বলবে। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীকে রাজ্যপাট থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণ প্রস্তুত।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারি, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় জনসভা করেন। কেশিয়ারির সভায় তিনি অভিযোগ করেন, বিহারে যাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে, বিজেপি সরকার তাদের রেশন বন্ধ করে দিয়েছে এবং হলদিয়া বন্দর বিক্রি করে দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। ঝাড়গ্রাম ও বড়জোড়ার সভায় তিনি বলেন, এই নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় শূন্যে নেমে আসবে এবং রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি ‘বেলাইন’ হয়ে যাবে।
একই দিনে তিন শীর্ষ নেতার পাল্টাপাল্টি প্রচারণা রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূলের তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভোটের লড়াই এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।


