গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে ১৯৯৯ সালে স্থাপন করা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটর দীর্ঘ ২৭ বছরেও চালু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে জানা গেলেও স্থাপনের পর থেকে জেনারেটরটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটরটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি জেনারেটর কক্ষ নিয়মিত খোলা বা জেনারেটরটি চালু করার দৃশ্যও তারা দেখেননি বলে জানান তারা।
তীব্র লোডশেডিংয়ের সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বর্তমানে হাসপাতালের ছোট দুটি জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগে আলোসহ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে এসব জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালের পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে স্থাপন করা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি হাসপাতালের বড় পরিসরের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম। জানা গেছে, এটি চালাতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। তবে জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না থাকায় এর বর্তমান কারিগরি অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচল করতে কী পরিমাণ ব্যয় প্রয়োজন—এসব বিষয়ও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে স্থাপিত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র কেন বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে? একই সঙ্গে জেনারেটরটির রক্ষণাবেক্ষণ, বরাদ্দ ও জ্বালানি সংক্রান্ত সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ বলেন, “মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বিষয়গুলো নোট নিয়েছেন। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সমাজসেবক খন্দকার সালেহীন মাহমুদ সাদ বলেন, “আমি জন্মের পর থেকে এই জেনারেটর চালু হতে দেখিনি। লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালে রোগীদের যে কষ্ট হয়, তা দেখার মতো নয়। আমরা চাই, দ্রুত এই জেনারেটরটি চালু করা হোক।”
স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি, হাসপাতালের আশপাশের ওষুধের দোকানের ব্যবসায়ী, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললেও তারাও জেনারেটরটি চালু হতে দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি সচল করা গেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবা, অপারেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জেনারেটরটির বর্তমান কারিগরি অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করুক। একই সঙ্গে ২৭ বছর ধরে কেন জেনারেটরটি চালু হয়নি, এর পেছনে কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কি না এবং এটি সচল করতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর অব্যবহৃত থাকার বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


