গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল শিবমূর্তি নির্মাণ এবং কোটি কোটি টাকার মন্দির স্থাপন নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ধর্মান্তরিত তাওহীদ ইসলাম ওরফে হরিদাসের নাম। একসময় এসি মেকানিক থেকে শুরু করে সবজি বিক্রেতার সঙ্গে সাবলেট বাসায় বসবাস—তারপর ধর্মান্তরিত হয়ে নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হওয়া এই ব্যক্তির জীবনকাহিনী এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর হরিদাসের প্রতারণার নানা কৌশল প্রকাশ্যে আসে। তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার দাবি করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিত্তশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চাকরি, বদলি, টেন্ডারসহ নানা সুযোগের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। সহযোগী ইমরান মেহেদী হাসানসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু কর্মচারীও তার প্রতারণার জালে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে প্রতারণার অর্থে জমি কিনে তিনি "প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক" নামে রিসোর্ট নির্মাণ করেন। কয়েক বছরের মধ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্ট চালু করে স্থানীয়দের আকৃষ্ট করেন। সেখানে তিনি এডিট করা ছবি দেখিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার চালাতেন এবং বিনিয়োগের প্রলোভন দিতেন।
পরবর্তীতে পলাশবাড়ীর কোমরপুরে এশিয়ার সর্বোচ্চ দাবি করে রাধা গোবিন্দ মন্দির ও বিশাল শিবমূর্তি নির্মাণে হাত দেন। তার টাকার উৎস কোথায়, কীভাবে তিনি এত বিপুল অর্থ সংগ্রহ করলেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি হয়তো ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আবার অনেকে বলছেন, মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় বৃহৎ মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তিনি উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
র্যাব কর্মকর্তাদের মতে, হরিদাস অত্যন্ত বচনপটু। একবার তার সঙ্গে পরিচিত হলে প্রতারণার ফাঁদ থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত থেকে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা এখন প্রশ্ন তুলছেন—২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্দির ও ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিবমূর্তি নির্মাণের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? হরিদাস কি সত্যিই ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়েছেন, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে?
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি উঠেছে, হরিদাসের টাকার উৎস খুঁজে বের করে তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।


