
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
চুয়াডাঙ্গায় নিষ্ক্রিয় করা হলো অর্ধশতাব্দী আগের ল্যান্ডমাইন
নিজস্ব সংবাদদাতা:|প্রযুক্তি
২৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৩

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর যশোর সেনানিবাসের একটি বিশেষ দল মাইনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা এবং আকাশে সৃষ্টি হয় ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাখালডাঙ্গা গ্রামের মাঠে কৃষকরা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করার সময় লোহার মতো কিছু শক্ত বস্তুর অস্তিত্ব টের পান। কৌতূহলবশত মাটি সরিয়ে তারা ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তুগুলো দেখতে পান।
খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাটিকে নিরাপদ বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলে। মাইনগুলো মাটির গভীরে থাকায় এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেগুলো উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ও বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন ছিল।
প্রায় এক মাসের বিচার-বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি শেষে শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চূড়ান্ত রূপ পায়। যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি দক্ষ ‘বোম্ব ডিসপোজাল টিম’ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে মাইনগুলো নিচ থেকে তুলে আনে।
এরপর নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে একে একে সাতটি মাইনই নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মাটি ও ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘক্ষণ দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন,"আমরা ধারণা করছি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেকাতে অত্যন্ত কৌশলে এই স্থলমাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো মাটির নিচে সুপ্ত অবস্থায় ছিল, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।"
মাইন নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই মরণঘাতী মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই মাঠে চাষাবাদ করা হয়েছে ভেবে অনেকেই শিউরে উঠছেন।
সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের এই সফল অভিযানে এলাকাবাসী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
মুদ্রিত হয়েছে: ২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ০১:৪৭ PM