নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মূল্যবান বনজ গাছ অবৈধভাবে কেটে কম দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের গাছ মাত্র ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ ছিল। সম্প্রতি হঠাৎ করেই এসব গাছ কেটে ফেলা হয় এবং পরে তা গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ‘বিশ্বাস পরিবার’ নামে পরিচিত স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সদস্যরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি বা উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই এই গাছগুলো বিক্রি করেন।
গাছগুলো ক্রয় করেছেন আলম নামের এক গাছ ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা হলেও মাত্র ৯০ হাজার টাকায় লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের বড় ধরনের অপচয় ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। গাছ কাটার সময় কোনো ধরনের প্রশাসনিক উপস্থিতি ছিল না এবং রাতের আঁধারে বা নির্জন সময়ে গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি দীর্ঘ সময় স্থানীয় প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিল।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি জায়গার গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ, গাছের তালিকা প্রস্তুত এবং প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই সকল নিয়ম-কানুন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এভাবে যদি সরকারি সম্পদ প্রভাবশালীদের হাতে চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। আমরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, “যেহেতু ঘটনাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি সংক্রান্ত, তাই প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে খোঁজখবর শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
এদিকে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।


