
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় "মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার" নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের বিল পরিশোধ না করতে পারায় নবজাতক বিক্রি করার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা প্রসব ব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। সিজারিয়ান অপারেশনের পর রবিবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার টাকা বিল দাবি করে। কিন্তু দরিদ্র ওই পরিবার টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এক কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, বিল পরিশোধে অক্ষমতার কারণে চিকিৎসক নবজাতক বিক্রি করে দেয়ার চাপ দেন এবং এমনকি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য গ্রাহকও ঠিক করা হয়। এ ঘটনায় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন দাবি করেছেন, "বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি, কথাটি সত্য নয়।" তবে, ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী বলেন, "নবজাতক বিক্রির চাপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্লিনিকে পর্যাপ্ত জনবল এবং চিকিৎসক না থাকার মতো কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।"
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী জানিয়েছেন, "তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিকটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"