
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ঠান্ডা-কাশি ও জ্বর দিয়ে শুরু হয়। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তাদের শরীর দুর্বল করে দেয়। এ সময়ে শিশুর খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাবার তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শক্তি জোগায় এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে। অন্যদিকে ভুল খাবার তাদের সুস্থ হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
শিশুকে কী খাওয়াবেন
পুষ্টিকর তরল খাবার: হাম আক্রান্ত শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ফলের রস, স্যুপ, ডাবের পানি ইত্যাদি তরল খাবার তাদের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: কমলা, আমলকি, পেঁপে, স্ট্রবেরি ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ মোকাবেলায় সহায়ক।
দুধ ও দই: পরিমিত পরিমাণে দুধ ও দই শিশুর পেটের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি হজমে সহায়তা করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
সুষম খাদ্য: ভাত, রুটি, সবজি ও মাংসের স্যুপ শিশুর শক্তি জোগায় এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
সহজে হজমযোগ্য খাবার: নরম ভাত, খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিম বা মাছের ঝোল শিশুর জন্য উপকারী হতে পারে।
কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন
তেল-মশলা ও জাঙ্ক ফুড: ফাস্ট ফুড, চিপস, ফ্রাইড খাবার শিশুর পেটের সমস্যা বাড়ায় এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে।
কঠিন হজমযোগ্য খাবার: কাঁচা সবজি, শক্ত মাংসের অংশ বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত মিষ্টি: হাম আক্রান্ত শিশুর শরীর দুর্বল থাকে, তাই অতিরিক্ত চিনি শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
দুগ্ধজাত পণ্য অতিরিক্ত: দুধ ও দই উপকারী হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে হজমে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শিশুর হাম হলে বাবা-মাকে অবশ্যই তাদের শারীরিক অবস্থা লক্ষ্য রাখতে হবে। খাবার নির্বাচনের সময় হালকা, পুষ্টিকর ও সহজে হজমযোগ্য খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশুর ক্ষুধা কমে গেলে জোর করে খাওয়ানোর পরিবর্তে ছোট ছোট পরিমাণে বারবার খাবার দেওয়া ভালো।
চিকিৎসকরা বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সঠিক খাবারই সবচেয়ে বড় ওষুধ। পাশাপাশি শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে নিয়মিত তরল খাবার দেওয়া জরুরি।
সারসংক্ষেপ: হাম আক্রান্ত শিশুর জন্য খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করলে শিশুর সুস্থতা দ্রুত ফিরে আসতে পারে। বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো সঠিক খাবার প্রদান করা এবং ক্ষতিকর খাবার থেকে বিরত রাখা।