গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার বাসিন্দা আসলাম জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রামী। তিন বছর বয়সে বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই পা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন তিনি। এরপর থেকে ভ্যান চালিয়ে দিন আনি দিন খাই—এভাবেই ছয়জনের সংসার টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সাত মাস বয়সী ছেলে তাজিমের একের পর এক অসুস্থতা তার জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
গত সপ্তাহে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে তাজিমকে প্রথমে কোটালিপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত রোববার ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আইসিইউ’র ৯ নম্বর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তাজিম।
আসলাম জানান, ছেলের চিকিৎসায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “গতকালও ১৪ হাজার টাকার ইনজেকশন কিনতে হইছে। বাইরের দুধ কিনে খাওয়াইতে হয়, জন্মের পর থেকে পাঁচ দিনও সুস্থ থাকে নাই। এখন আবার নতুন করে দেনা হইলো।”
হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকা এই বাবার চোখে তখন শুধু একটাই আকুতি—ছেলেটা যেন বেঁচে যায়। আসলাম বলেন, “সরকার যদি একটু সাহায্য করতো, তাহলে হয়ত ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাইতে পারতাম। কিন্তু এত ঋণ শোধ করার সামর্থ্য আমার নাই।”
এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৮১ শিশু। আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬৭ জন এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৭ হাজারের বেশি শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।


