২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাতভর অভিযান বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি বিভীষিকাময় অধ্যায় হয়ে আছে। ‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’ নামে পরিচিত এই অভিযানে শতাধিক মাদরাসা শিক্ষক-ছাত্র নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে, যদিও সঠিক পরিসংখ্যান আজও অজানা।
দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে বাধা ও সংঘর্ষের পর মধ্যরাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে শাপলা চত্বর খালি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিরস্ত্র আলেম-ওলামাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ৬১ জন নিহতের তালিকা প্রকাশ করলেও সরকারি সূত্রে কোনো স্বীকৃত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ অর্ধশত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু ঢাকাতেই নিহত ৩২ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা ফেয়ার ইনভেস্টিগেশনের চেষ্টা করছি, যাতে প্রকৃত দোষী ছাড়া কেউ হয়রানির শিকার না হয়।”
এক দশক পেরিয়ে গেলেও শাপলা চত্বরের সেই কালো রাতের সত্য আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। নিহতদের পরিবার ও আলেম সমাজ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন, আর রাষ্ট্রীয় তদন্ত এখনো শেষ পর্যায়ে।


