গাইবান্ধায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা বা সমর্থন থাকার কারণেই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক ফলাফলের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলা শহরসহ বিভিন্ন থানাতেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
নিয়োগে স্বজনপ্রীতির চরম দৃষ্টান্ত দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরগঞ্জে ছাপড়হাটী ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি ফারুক বিন আফসারের সাথে এমপির ঘনিষ্ঠতার সুবাদে একই পরিবারের তিন সদস্য নিয়োগ পেয়েছেন; তারা হলেন তার স্ত্রী মুসফিকা আক্তার, বোন ফাতেমা আক্তার এবং ছোট ভাই মাসুদ মিয়া। অন্যদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, পলাশবাড়ীর পবনাপুর ইউনিয়নে এনসিপি সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সুপারিশে তথ্য সংগ্রহকারী পদে তাঁর স্ত্রী শিমা আক্তার সুরমিলা এবং সুপারভাইজার পদে আপন ভাই আব্দুল মাজেদ মন্ডলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য উপজেলায় নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলায় এক অফিস সহায়কের স্ত্রী ও শ্যালিকা, ফুলছড়িতে তিনজন কর্মরত স্কুল শিক্ষিকা এবং রামজীবন ইউনিয়নে একজন বর্তমান নারী ইউপি সদস্যকে অনৈতিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গাইবান্ধা পৌর শহরেও প্রকৃত ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে এ ধরনের ফলাফল ঘোষণাকে 'অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য' দাবি করে অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।


