
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার তুলনায় গাইবান্ধায় মিষ্টি ও দইয়ের বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে লাগামহীন। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যে মিষ্টির দাম সহনীয় পর্যায়ে, গাইবান্ধার বাজারে সেই একই মিষ্টির জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অভিযোগ রয়েছে, একদিকে যেমন আকাশচুম্বী দাম রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে মিষ্টি ও দইয়ের গুণগত মানও আগের চেয়ে অনেক খারাপ হয়েছে। এই জনভোগান্তি নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অস্বাভাবিক দাম ও তুলনাস্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, গাইবান্ধা পৌর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিষ্টির দাম প্রতিবেশী বগুড়া বা রংপুরের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে ছানা ও দুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রসগোল্লা বা চমচমের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা,মিষ্টির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানের দইয়ের দামও মানভেদে অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেক বেশি।
নিম্নমানের পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশমূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মিষ্টির গুণগত মান নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। অনেক দোকানে বাসি মিষ্টি নতুন সিরাপে মিশিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, দইয়ে মাত্রাতিরিক্ত চিনি এবং নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাইবান্ধায় কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির দায়ে জরিমানা করলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি।
প্রশাসনের তদারকির অভাবে বর্তমানে গাইবান্ধার মিষ্টির বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত কোনো অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ব্যবসায়ীরা নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জুলাই ২০২৫ মাসে কিছু বাজার তদারকি অভিযান চললেও মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে মনে করেন ভোক্তারা।
জনসাধারণের দাবিভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা না হলে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।