গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ঘাগোয়া শোলাগাড়ী গ্রামে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সাখাওয়াত হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সেগুলো ফেরত দেওয়ার কথা বলে উল্টো ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মোছা. শিরিনা বেগম নামের ওই ভুক্তভোগী নারী গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়ের করা অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান আসামির পাশাপাশি আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশে দেওয়া অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শিরিনা বেগমের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান সাখাওয়াত ও তার সহযোগীরা। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে শিরিনা সরল বিশ্বাসে তিনটি সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প তাদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘ দিনেও চাকরির কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি চেক ও স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চান। তখন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। প্রতারক সাখাওয়াত হোসেন পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জানান, টাকা দিলে তিনি চেক এবং স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করে দেবেন। তার এই কথায় পুনরায় বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সাখাওয়াতকে নগদ ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন শিরিনা বেগম। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও ওই নথিপত্রগুলো আর ফেরত দেননি অভিযুক্ত ব্যক্তি।
অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, এরপর থেকে পাওনা ৩ লাখ টাকা ও স্ট্যাম্প-চেক ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা ধরনের টালবাহানা ও হুমকি-ধামকি। সর্বশেষ গত ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৮টার দিকে শিরিনা বেগম তার টাকা চাইতে গেলে তাকে খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি বা কোথাও আইনি অভিযোগ করলে শিরিনা এবং তার ভাই আনারুল ইসলামকে রাস্তায় পেলে মারধরসহ বড় ধরনের ক্ষতির হুমকিও দেন অভিযুক্তরা।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসা ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরই আইনের আশ্রয় নেন শিরিনা বেগম। দায়ের করা ওই অভিযোগে মোছা. মুসলিমা বেগম, মো. মিলন মিয়া এবং মো. আয়নাল মিয়াকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বর্তমানে শিরিনা বেগম প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা ৩ লাখ টাকা উদ্ধার এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে থানায় দায়ের করা এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।


