দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের আইনি জটিলতা, হয়রানি আর উৎকণ্ঠার অবশেষে অবসান ঘটল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির নিরঙ্কুশ মালিকানা ও দখল বুঝে পেলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর (আদর্শ পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ অমিতন নেছা ও তাঁর পরিবার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক যুগান্তকারী রায়ে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খাজা ও অন্যান্যরা জানান, কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র, দলিল বা সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও 'সরফপোতা' তালিকাভুক্ত একদল ব্যক্তি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিল। মিথ্যা দাবি ও মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয় অমিতন নেছার পরিবারকে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে পরিবারটির প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছে। তবে হাইকোর্টের রায়ে অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে বলে জানান তারা।
আইনি লড়াইয়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পরিবারটির স্বত্ব ও দখল বৈধ বলে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর গাইবান্ধা সদরের সিনিয়র সহকারী সিভিল জজ আদালত (মামলা নং- অন্য ১০০/২০০০) এবং ২০১০ সালের ২২ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা জজ আদালত (মামলা নং- অন্য ১৫৫/২০০৮) অমিতন নেছার পরিবারের পক্ষে রায় দেন। সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই (২০২৬) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (মামলা নং- অন্য ১৯৯/২০১৬) নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত ডিক্রি প্রদান করেন।
জমির তফসিল ও বর্তমান অবস্থা:
আদালতের রায় অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন ৯৯ নং জে.এল. ভুক্ত গোবিন্দপুর মৌজার সি.এস. ১০৪৪ ও এস.এ. ১২৯০ নং খতিয়ানের ৭৩৮৮ নং দাগের মোট ৭৯ শতক জমির মধ্যে পশ্চিম পার্শ্বের ৩৬ শতাংশ জমির বৈধ মালিক মোছাঃ অমিতন নেছা গং।
আদালতের রায় ও ডিক্রি অনুযায়ী জমিটি বর্তমানে বৈধ মালিকের সম্পূর্ণ দখলে রয়েছে। আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের পর পরিবারটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর যে অবিচার চলছিল, হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে তার অবসান হলো। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছি।"


