ভারতের লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পরমজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ছাত্রীকে বারবার দেখা করার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (১৬ মে) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত অধ্যাপকের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর একটি আপত্তিকর ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অডিও ক্লিপে অধ্যাপককে বলতে শোনা যায়, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। কবে দেখা করতে আসবে?” জবাবে বিএসসি পড়ুয়া ছাত্রী জানান, তাঁর পড়াশোনা শেষ এবং প্রশ্নপত্রের কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরও অধ্যাপক পরীক্ষার আগে দেখা করতে চাপ দেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লখনউ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ পরমজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জে পি সাইনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া অধ্যাপক দাবি করেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী অপরাধে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


