দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তির পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যাকে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'সমঝোতার একটি কার্যকর ভিত্তি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধবিরতি: বুধবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত এবং দেশটিতে আগামী দুই সপ্তাহ কোনো হামলা না চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই আলোচনায় সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' অবিলম্বে এবং নিরাপদে খুলে দিতে রাজি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এই প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, যা বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
আলোচনার মূল ১০ দফা (তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী): ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই আলোচনা তেহরানের দেওয়া ১০ দফার আলোকেই হবে। যার মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং আইএইএ (IAEA) কর্তৃক আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়া।
সেনা প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে সকল মার্কিন যুদ্ধকালীন সেনা প্রত্যাহার।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বন্ধ এবং একটি আনুষ্ঠানিক অনাক্রমণ নীতি গ্রহণ।
হরমুজ প্রণালী: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে এই পথে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ইরানের হাতে থাকা।
ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
আর্থিক তহবিল ও সম্পদ: বিদেশে জব্দ করা ইরানের সকল সম্পদ অবমুক্ত করা এবং বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন।
পারমাণবিক অধিকার: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখা এবং এর স্তর নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা।
আঞ্চলিক শান্তি চুক্তি: প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার সুযোগ।
প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সুরক্ষা: অঞ্চলের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ।
জাতিসংঘের গ্যারান্টি: যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের মাধ্যমে আইনি বাধ্যবাধকতা প্রদান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় জানান, লেবাননসহ সব জায়গায় এখন থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তিনি দুই দেশের প্রতিনিধিদের ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরান জানিয়েছে, তারা আমেরিকানদের ওপর 'চরম অবিশ্বাস' রেখেই এই আলোচনায় বসছে এবং যেকোনো সামান্য ভুল হলে তারা 'পূর্ণ শক্তি' দিয়ে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।


