
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বর, কনে, তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং মাইক্রোবাস চালকও রয়েছেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে হাজারো মানুষ একত্রিত হয়।
জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং নিহতদের স্বজনরা। উপজেলা পরিষদ মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে শোকস্তব্ধ মানুষে।
এদিন জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে, মোংলা কবরস্থানে ৯ জনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজার আগ মুহূর্তে নিহতদের স্বজনরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিশেষত, নিহতদের এক স্বজন আশরাফুল আলম জনি তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, "আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগ্নে সবই হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন, যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব। আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"
জানাজার পূর্বে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।"
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, "যে বাড়িতে আজ আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে বিশাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।"
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের সন্তান আলিফ, আরফা, ইরাম, কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম ছিলেন।
মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। তার জানাজা শুক্রবার জুমার আগে গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বর ছাব্বির মোংলা শহরের একটি মোবাইল দোকানের মালিক ছিলেন, এবং কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।