
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে ফোন করার পর সাংবাদিকদের মোবাইল স্ক্রিনে কলার আইডি হিসেবে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি ভেসে উঠেছে। বুধবার (২৬ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকেরা হোয়াইট হাউসে ফোন করলে এই অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি অনুষ্ঠানে। বুধবার হোয়াইট হাউসে বিশ্বনেতাদের স্ত্রীরা নিয়ে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মেলানিয়া ট্রাম্প ‘ফিগার ০৩’ নামের একটি মানবী সদৃশ রোবটের সঙ্গে হাঁটছিলেন, যা ১১টি ভাষায় অতিথিদের অভিবাদন জানাচ্ছিল। এই অনুষ্ঠানেই মেলানিয়ার পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের ‘স্টাইল’ বিভাগ থেকে হোয়াইট হাউসে ফোন করা হয়েছিল।
তবে, যখন গুগলের 'পিক্সেল' ফোন ব্যবহারকারীরা হোয়াইট হাউসে ফোন করেন, তখন তাদের স্ক্রীনে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হয়। তবে আইফোন ব্যবহারকারীদের স্ক্রীনে কোনো নাম দেখা যায়নি, শুধু নম্বরটি প্রদর্শিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে গুগলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল বলেন, এটি একটি 'ফেক এডিট' বা ভুলের কারণে হয়েছিল। গুগল ম্যাপের কলার আইডি ফিচার সাময়িকভাবে ভুল তথ্য গ্রহণ করেছিল, যা ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। ফ্লেগাল আরও জানান, যে ব্যবহারকারী এই ভুয়া তথ্যটি দিয়েছিলেন, তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে পিক্সেল ফোন থেকে কল করলে আর কোনো নাম দেখা যাচ্ছে না।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, কলার আইডির বিষয়টি সম্পূর্ণ বাহ্যিক এবং এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের কোনো সম্পর্ক নেই।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, নারী ও শিশু পাচারসহ নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে হোয়াইট হাউস। এপস্টেইনের ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’, বা লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত একটি এস্টেট ছিল যা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
এছাড়া, গুগল ম্যাপে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বা নম্বর পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। এর আগেও স্কুলের নাম পরিবর্তন করে মিম-ভিত্তিক নাম দেওয়া অথবা স্ক্যামারদের দ্বারা ব্যাংক হেল্পলাইন নম্বর বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল।