রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে থানার ওসি আজাদ রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এক প্রেমিক যুগলকে থানায় আনার পর তাদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে কয়েকজন নেতা থানায় যান। এ সময় রাকিবুল ইসলাম দেখেন, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। তিনি আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাকিবুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযোগ করেন, তাকে রাইফেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার। আজও আমাকে মাথায় ও চোখে মারধর করা হয়েছে। পুলিশের চরিত্র এখনও ফ্যাসিবাদী।”
পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু থানায় পৌঁছে আহত রাকিবুলকে হাসপাতালে পাঠান। রাত ১১টার দিকে উদ্ধার হওয়া যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাকিবকে পুলিশ পিটিয়েছে এবং তাকে নিজেও আঘাত করা হয়েছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, “পোশাক বদলেছে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আজাদ রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে পুলিশ তা থামায়। আহত নেতার শরীরে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়।”
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাতেই পুলিশ মিডিয়া সেল জানায়, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।


