
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
গাইবান্ধা জেলা শহরে দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে অবৈধ যান চলাচলের দৌরাত্ম্য। বিশেষ করে অবৈধ কাঁকড়া গাড়ি (ট্রাক্টর-ট্রলি), বালুবাহী ড্রামট্রাক এবং পাওয়ার টিলার চালিত ট্রলিগুলোর বেপরোয়া গতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রশাসনের দৃশ্যত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় এসব ঘাতক যান এখন শহরবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
শহরের ডিবি রোড, সার্কুলার রোড এবং পুরাতন জেলখানা মোড়সহ ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে দিনের আলোতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব ভারী যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালকদের অধিকাংশেরই নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স এবং অনেকেরই বয়স ১৮-এর নিচে। ফলে নিয়মিতভাবে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাসে এসব যানবাহনের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকে।
কেবল দুর্ঘটনাই নয়, ড্রামট্রাক থেকে উপচে পড়া ভেজা বালু,মাটি রাস্তায় পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে চলাচলের পথ। এতে মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীরা প্রায়ই ছিটকে পড়ছেন। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবাহনের চাপে শহরের পাকা রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
শহরের সচেতন মহলের অভিযোগ, ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ যান চলাচল করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব নিয়ম কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
শহরের সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত এসব অবৈধ যান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস চলাকালীন সময়ে ড্রামট্রাক ও কাঁকড়া গাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
গাইবান্ধা শহরকে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।